উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা বালুখালী, ধামনখালী ও রহমতেরবিলে খালের মুখে তথা নাফ নদের মোহনায় সুইচ গেইট স্থাপনের প্রতিবাদ এবং এর পরিবর্তে ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ২টায় ধামনখালী সীমান্তে জড়ো হয় এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার সন্তান কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, প্রায় ৩০০ ফিটের খালের চওড়া মুখ ভরাট করে মাত্র ৫ ফিটের সুইচ গেইট স্থাপন নির্মাণ করলে কীভাবে পানি চলাচল হবে, প্রশ্ন করেন তিনি। এই প্রকল্পকে 'জঘন্যতম কাজ' উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ আব্দুল মান্নান বলেন, এটি একটি জনবিরোধী প্রকল্প যা দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু অসাধু লোক অর্থ লোপাটের মহোৎসব শুরু করেছেন। এই সুইচ গেইট দিয়ে কোনোভাবেই জোয়ার-ভাটার পানি ওঠানামা করতে পারবে না। এর মাধ্যমে এলাকাবাসীকে পানিতে চুবিয়ে মারার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এম.এ মালেক বলেন, সুইচ গেইটের কারণে বর্ষাকালে বালুখালী, ধামনখালী ও রহমতেরবিলের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো বন্যাপরিস্থিতির মুখোমুখি হবে; তলিয়ে যাবে গ্রামীণ সড়ক এবং ভুক্তভোগী হবেন এই এলাকার বাসিন্দারা। তিনি সুইচ গেইট নির্মাণের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং খালের স্বাভাবিক আকৃতি মোতাবেক ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
এর আগে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিতভাবে সুইচ গেইটের পরিবর্তে ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করেন এলাকাবাসী। এতে জনস্বার্থে সচেতন মহল ও মান্যগণ্যরা গণস্বাক্ষর করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরু সুইচ গেইটের কারণে মৎস্য চাষে যুক্ত ৫০০ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিবারগুলো ৪০০ একর ঘেরের জমির ওপর নির্ভরশীল। পানির অব্যবস্থাপনা ও বণ্টনে সমস্যা হলে মৎস্য চাষ ও ধান চাষেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে৷
সচেতন মহলের দাবি, যেসব খালগুলো নাফ নদে গিয়ে মিশেছে, সেখানে সুইচ গেইট নির্মাণ না করে ব্রিজ তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, পানি নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে এলাকাবাসীর।