বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও–নারী


coxmorning প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২১, ৫:৪৯ অপরাহ্ন /
বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও–নারী

মর্জিয়া বেগম :  মানুষ অদম্য। মানুষ অপরাজেয়। শারীরিক প্রতিবন্ধীতা তাকে নিরস্ত করতে পারে না। ক্রাচে ভর করে মানুষ উঠে পড়ে সুউচ্চ পর্বতের চূড়ায়। দুহাত নেই, দুপায়ে লিখে কেউ বা অর্জন করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি। তেমনি অর্থনৈতিক বাধা, সামাজিক বাধা, প্রাকৃতিক বাধা জয় করেই মানুষ এগোতে থাকে।

পাশের বাড়ির ছৈয়দ মিয়ার ছোট্ট বালিকাটির বাড়িতে বাংলা পড়া ছিল পাপ, ইংরেজি পড়া ছিল মহাপাপ। তবু রাতের অন্ধকারে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে মোমবাতির মৃদু আলোয় লেখাপড়া করত। কী সুন্দর বাংলা শিখল সে, কী দারুণ ইংরেজি। তাঁর সুলতানা’স ড্রিম নামের বইটি পড়লে আজও আমরা অভিভূত হই, তেমনি তাঁর অবরোধবাসিনী কিংবা মতিচূর আজও আমাদের আলোড়িত করে। কেবল তিনি ভালো লিখতে শিখলেন, তা নয়, তার চিন্তাও কত বৈপ্লবিক। বড় হয়ে তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন কলকাতায়, সেই স্কুলে ছাত্রী জোগাড় করতে তাঁকে যেতে হয়েছিল বাড়ি বাড়ি। একবার এক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, এই স্কুল ভবনের জন্য কত মাটি পুড়িয়ে ইট বানাতে হয়েছে, কত শামুক পুড়িয়ে চুন বানাতে হয়েছে, কত গাছ কেটে কাঠ বানাতে হয়েছে। বেগম রোকেয়াকেও পোড়াতে হয়েছে এমনি করে নিজেকে। কিন্তু তিনি নিজে বাধা অতিক্রম করতে পেরেছিলেন বলেই আজ বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে; প্রধানমন্ত্রী থেকে স্পিকার নারী, মেয়েরা পৌঁছে যাচ্ছে এভারেস্টের চূড়ায়।

শুধু ইতিহাসের পাতা থেকে নয়, আমাদের চারপাশে প্রতিদিনের জীবনেও তেমনি রয়েছেন যুদ্ধজয়ী নায়করা। যাঁরা সব বাধা পেরিয়ে চলেছেন বহুদূর। যাঁদের দিকে তাকালে আমরা বলতে পারি, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।শিউলি শর্মা আপু নির্যাতিত নারীদেরকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন পৃথিবীর পথে, আবার রামুতেই গড়ে তুলেছেন “জাগো নারী” নামের সংস্থা। ইতোমধ্যে নির্যাতিত ও অসহায় নারীদের নিয়ে এগিয়েছেন সুদূর, আমি তাঁকে স্যালুট জানাই।

আমাদের প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব বাধা পেরোনোর গল্প, তেমনি আমাদের চারপাশে আছে এমন মানুষ, যাদের বাধা পেরোনোর গল্পটা সত্যি অনন্য ও অসাধারণ, আর দারুণ উজ্জীবক, প্রেরণাদায়ী।

আমরা এসব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া বিজয়ীদের কথা বলি, শুনি, শোনাই—আসলে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেষণা দিই; সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিজয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী হই পুর্নবার।
আর নয় বাধা,এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে।

লেখক
মর্জিয়া বেগম