টিকার এসএমএসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২১, ১২:০৭ অপরাহ্ন /
টিকার এসএমএসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক :   প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিশেহারা। ভাইরাসটির প্রকোপ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় এখন টিকাকরণ। সে লক্ষ্যে উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

ইতোমধ্যে দেশের অনেক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
দিন যত যাচ্ছে, টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহও তত বাড়ছে। তাছাড়া টিকাগ্রহণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণসহ অনেক ক্ষেত্রে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থেকেও এখন অনেকেই টিকা পেতে উদগ্রীব।

কিন্তু আগ্রহ সত্ত্বেও আশানুরূপ মানুষকে এখনও টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ টিকার অপ্রতুলতা। যে কারণে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ যা ইতোমধ্যে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তারা এখন এসএমএস অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন তিন কোটি ৬৫ লাখের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এক কোটি ৭৫ লাখ।
আর দুটি ডোজই সম্পন্ন করেছেন ৭২ লাখের মতো মানুষ।
বাংলাদেশ অনেক আগে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে সরকার। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র মিয়ানমার ছাড়া সবাই টিকাদানে বাংলাদেশের উপরে রয়েছে। এমনকি অনেক পরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা বিভিন্ন দেশও বাংলাদেশের চেয়ে এক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

সরকারের টার্গেট ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া। বর্তমান গতিতে টিকাদান কর্মসূচি চললে ৮০ শতাংশ লোককে টিকা দিতে ১০ বছর লেগে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকার আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল।
টিকার এসএমএস পেতে দেরির ব্যাপারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, বিপুলসংখ্যক মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করছে। যার কারণে কেন্দ্রগুলোতে অনেক বেশি নিবন্ধনকারীর সংখ্যা জমে যাচ্ছে। যে কেন্দ্রে টিকার জন্য নিবন্ধন করা হয় সেখানে নিবন্ধনের আইডি নম্বরটা থেকে যায়। ওই নম্বর অনুযায়ী, যে আগে নিবন্ধন করবে তাকে আগে এসএমএস পাঠানো হয়।

টিকার স্বল্পতার কথা জানিয়েছেন টিকা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য ডা. এ এস এম আলমগীরও। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এক সঙ্গে এক-দেড় কোটি মানুষকে দেওয়ার মতো টিকা এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। তবে টিকার পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও ক্রমান্বয়ে আসছে বলে জানান তিনি। যারা ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছেন পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আপনি আমাদের কোন লিখা কপি করতে পারবেন না।