জুতা দিয়ে সিনহার গলা চেপে ধরেন প্রদীপ: আদালতে সাক্ষী আমিন


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন /
জুতা দিয়ে সিনহার গলা চেপে ধরেন প্রদীপ: আদালতে সাক্ষী আমিন

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান যখন মাটিতে পড়ে ছিলেন তখন জুতা দিয়ে তার গলা চেপে ধরেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
মঙ্গলবার সিনহা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দিন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই সাক্ষ্য দেন টেকনাফের বাহারছড়ার বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ও হেফজখানার শিক্ষক হাফেজ মো. আমিন।

পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে আদালতে তিনি বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভে শামলাপুর চেকপোস্টের বিপরীতে একটি মাদ্রাসায় আমি তখন বাচ্চাদের পড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ চেকপোস্টের দিক থেকে গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে চেকপোস্ট এলাকায় আসি। দেখি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে রয়েছে এক ব্যাক্তি, তখনও তিনি জীবিত। কিছু সময় পর একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থলে আসেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি গাড়ি থেকে নেমে পরিদর্শক লিয়াকতের সাথে কথা বলেন। পরে আহত লোকটির কাছে গিয়ে লাথি মারেন। এরপর জুতা দিয়ে লোকটির গলা চেপে ধরেন। পরে জানতে পারি নিহত লোকটি আর্মির মেজর সিনহা।’
এদিকে হাফেজ আমিনকে রোহিঙ্গা দাবি করে আসামি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত বলেন, সাক্ষী আমিন টেকনাফের শামলাপুরে ২৩ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিক। যেখানে ক্যাম্প থেকে বের হতেই অনুমতি লাগে সেখানে সে কি করে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হন।

তিনি বলেন, ওই সাক্ষী নিজেই জানেন না ওই মসজিদের কমিটিতে কারা রয়েছেন। যে মসজিদ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম জানেন না সে কি করে সেই মসজিদের ইমাম হন। তাই আমরা মনে করছি ওই সাক্ষী যা বলেছেন সব মিথ্যে বলছেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে আদালতে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক নয়, বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি যা দেখেছেন তাই আদালতে বর্ণনা করেছেন। তাকে রোহিঙ্গা বলে মামলাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার কৌশল আসামি পক্ষের।
বাদী পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন কৌশলে সময়ক্ষেপণ করছেন। অপ্রয়োজনীয় কথা বলছেন, যাতে সাক্ষীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন।

বিচারকার্য শুরুতে সরকারি নিয়ম নীতির আলোকে আসামি প্রদীপ কুমার দাশ একজন প্রথম শ্রেণির অফিসার হিসেবে কারাগারে যে সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তার আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত।

কারাগারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে প্রদীপের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের আবেদন করেন তিনি। আদালত কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি পক্ষের একজন আইনজীবী ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছিল তা তলবের আবেদন করেন আদালতে। এ সময় সরকারি কৌসুলি তার বিরোধীতা করে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নথি। এটি এই মামলায় এই মুহূর্তে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই। এর পরপরই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাফেজ মো. আমিনের স্বাক্ষ্য রেকর্ড শুরু করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, অন্যদিনের মতো সকাল পৌনে ১০টার দিকে মামলার আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত সহ ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। দ্বিতীয় দফার তৃতীয় দিনের জন্য হাফেজ মো. আমিন, শওকত আলী ও সাইফুল আবছার আবুইয়ার সাক্ষ্যের হাজিরা দেওয়া হয়। প্রথম দিন ৬ জনের এবং দ্বিতীয় দিনে ৩ জনের হাজিরা দেয়া হলেও প্রতিদিন মাত্র একজন করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকে হাজির সব স্বাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করার। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করার কারণে তা সম্ভব হয় না। তারা সাক্ষীকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করেন।

আপনি আমাদের কোন লিখা কপি করতে পারবেন না।