প্রতি ৪০ সেকেন্ডে আত্মহত্যা করে একজন


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১, ৩:১৮ অপরাহ্ন /
প্রতি ৪০ সেকেন্ডে আত্মহত্যা করে একজন

আত্মহত্যা করে সারা বিশ্বে প্রতি বছর মারা যান ৮ লক্ষ মানুষ। এই হিসেবে বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের প্রায় দশ হাজার মানুষ। বিশ্বে ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ আত্মহত্যা।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে পল্টনের পল্টন টাওয়ারের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম হলে ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছেন আলোচকেরা ৷

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও পোস্টার ডিজাইনিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশন।’ কাজের মাঝে জাগাই আশা’ প্রতিপাদ্য রেখে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্ত হয়েছে আজ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে করোনায় আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ শতাংশ বেড়েছে। পৃথিবীর মানুষকে আজ এই বার্তা দিতে হবে যে আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয় ৷ মানুষের সমস্যা, সংকট, বিষাদ, দুঃখ এসব থাকবেই। কিন্তু আশা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।

আশা যাতে নিরাশায় পরিণত না হয় সে কারণেই বিশ্বব্যাপী আজ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একজনের সমস্যা আমরা দশজন মিলে যদি সমাধান করে দিই তাহলে হয়তো তাঁর সংকটগুলো আর থাকবে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা মানুষের প্রতি প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি বলেন, আনন্দ বেদনার মিশ্রণই জীবন। অনেকেই মনে করেন এই জীবন মূল্যহীন। সেই মানুষগুলোকে আমাদের বুঝতে হবে, জানতে হবে, কেন তার জীবনটা বিষাদময় হয়ে উঠল। তাঁদের হয়তো অনেক কিছু বলার থাকে কিন্তু তারা কাউকে বলতে পারে না। তাঁদের কথা শুনতে হবে।

প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা আমিনুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজে মানসিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পরিবার, সমাজে চেপে রাখা হয় ৷ কারণ মানুষ জানলে পাগল বলবে ৷ সমাজের এই ট্যাবু ভাঙতে হবে।

ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশন এর সভাপতি জয়শ্রী জামানের সভাপতিত্বে সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী সহ প্রমুখ।

আপনি আমাদের কোন লিখা কপি করতে পারবেন না।