৫০হাজার মানুষ কর্ম হারাবে সেন্টমার্টিনের জেটি না হলে


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১, ৪:১৯ অপরাহ্ন /
৫০হাজার মানুষ কর্ম হারাবে সেন্টমার্টিনের জেটি না হলে

মোঃ নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার :

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন বাঁচাতে বিধ্বস্ত জেটিটি অবিলম্বে সংস্কার করতে হবে। না হলে পর্যটন খাতে জড়িত অন্তত ৫০ হাজার লোকের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জেটির মেরামত করা না গেলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় পাশাপাশি সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে।
সেন্টমার্টিন জেটি দ্রুত মেরামতের দাবিতে শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ এসব কথা বলেন।


সাংবাদিক সম্মেলনে  বলা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক পারাপারে ৭-৮টি জাহাজ, ২০০-৩০০ বাস মিনিবাস, ১০০ মাইক্রোবাস, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ট্যুরিস্ট গাইড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ৫০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। এ সকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যম একমাত্র সেন্টমার্টিন জেটি। অনেক দিন জেটিটির সংস্কার নেই।তিনি মনে করেন, দ্বীপের প্রবেশদ্বার জেটি ছাড়া দ্বীপ যেন এক্কেবারে অচল।
পর্যটনের উদ্যোক্তা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, গেল কয়েকটি বছরে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড়- জ্বলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে সেন্ট মার্টিন জেটির অনেকাংশে ভেঙে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে পল্টুন। সর্বশেষ গত ২৭ মে ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেটিটি আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি জেটির পাশে ট্রলার ভিড়ানোর অংশ পর্যন্ত ভেঙে গেছে। যে কারণে অনেকটা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।দ্বীপকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দেয়াদি বিনিয়োগ করেছে। তারা আজ দিশেহারা।

তিনি বলেন, দ্বীপের কোন মানুষ অসুস্থ হলে জেটি ব্যবহার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে যাওয়া কঠিন। দ্বীপবাসী তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য আনা-নেওয়া করতে পারে না। জেটির কারণে দ্বীপের লোকজন মারাত্মক ক্ষতি ও ভোগান্তির শিকার।এই পরিস্থিতিতে জেটি পারাপার কোনভাবেই সম্ভব নয়। এই খাতে সম্পৃক্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হবে।দ্বীপের অবস্থা তুলে ধরে পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের বিরাট একটা অংশ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যায়। তাদের জন্য দ্বীপে গড়ে ওঠেছে দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ। রয়েছে শতাধিক রেস্তোরাঁ। বর্তমানে দ্বীপবাসীর একমাত্র আয়ের উৎস পর্যটন। তাই পর্যটনকে পুঁজি করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। বছরে মাত্র ৫ মাসের ব্যবসার আয়ের টাকায় ১২ মাস চলে দ্বীপের বাসিন্দারা। জেটিটি দ্রুত সময়ে সংস্কার না করলে বন্ধ হয়ে যাবে আয়ের উৎস। রাজস্ব বঞ্চিত হবে সরকার। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উপদেষ্টা এমএ হাসিব বাদল, এসএম কিবরিয়া খান, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তোহা, সহসভাপতি ইফতিকার আহমদ চৌধুরী, এসএ কাজল, নুরুল আলম রনি ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আল আমীন বিশ্বাস তুষার।
পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে সাহাব উদ্দিন জনি, জামাল উদ্দিন, জনি ভুইয়া, ফোরকান জুয়েল। এছাড়া বিভিন্ন পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানের ট্যুর গাইডরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সেন্টমাটিন ঘুরে দেখা গেছে সেন্টমার্টিন জেটির  বেহাল অবস্থা । এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই এমনটাই দেখা গেছে। যদিও জেলা পরিষদ কক্সবাজার বলছে তারা দুটি প্রপোজল পাঠিয়েছে।একটি মেরামতের আরেকটি নতুন জেটি করার জন্য ।
এদিকে কক্সবজারের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকা হলো টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এই সেন্টমাটিন দেখার জন্য পর্যটন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসে কক্সবাজারে। তারা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে যায় পরিবার পরিজন নিয়ে।
কিন্তু এদিকে কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন জেটির বেহাল অবস্থা থাকার কারনে পর্যটক ব্যবসায়ীরা আজ স্থানয়ি প্রশাসনের কাছে আবেতদন করেন যেন সত্তর জেটি মেরামত করে আগামীর মৌসুমে নিরাপদ ভাবে পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারে।  যদি এইভাবে থাকে তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে  জানান।   বর্তমান যে অবস্থায় রয়েছে তা দিয়ে স্থানীয়রা পর্যন্ত যেতে পারছে না । তারা সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে আসতে চাইলে বেশ বেগ পোহাতে হয়।
এদিকে সব ঠিকটাক থাকলে প্রতিবছরের ন্যায়  অক্টোবর মাসেই শুরু হতে পারে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল। পর্যটন মৌসুম শুরু হলেই এই জেটিঘাট নিয়ে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবার মাঝে থেকেই যাচ্ছে। জেটি তত্ত্বধানে আছে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। জেটির কোন ধরেনে উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা বলে জানান স্থানীয়রা । তারা আরো বলেছেন প্রতিবছর ইজারা দিয়ে কোটি টাকা নিয়ে গেলেও এই জেটির কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা । যদি এভাবে রাখা হয় তবে এই মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।


সূত্র মতে, ২০০৪ সালে সিএমএম কনসোর্টিয়াম মালিকের ঠিকাদারিতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এই সেন্টমার্টিন জেটি। দীর্ঘদিন ধরে জেটির রেলিং পূর্ব পাশের পার্কিং ও গাইড বিম, স্পিং বিম সাগরের বুকে চলে যায়। জেটির নিচে বেশির ভাগই ভেঙে রডগুলো দেখা যাচ্ছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এই বছরে বয়ে যাওয়া ফণী কোমেন ও টর্নেডোর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জেটিরও ভয়াবহ ভাঙন ও ফাটল তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল মালেক জানান, ২০০৫ সালে ১৫ জুন এই জেটি দিয়ে পর্যটকসহ স্থানীয়দের চলাচল শুরু হয়। এই জেটিটি নির্মাণের পর থেকে বেশ কয়েক বছর ভালোভাবে চললেও ১০-১২ বছর ধরে জেটির সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ছোটবড় ১২০টির মতো আবাসিক হোটেল, বাড়িঘর, কটেজ, রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি দোকানপাট রয়েছে প্রায় দুইশ’র কাছাকাছি। ভ্যান ও রিকশাসহ ২৫টি সার্ভিস বোট রয়েছে। আর এসব ঘিরে দ্বীপে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৪ হাজারের ঊর্ধ্বে রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াত। কিন্তু সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এ জেটি। এই জেটির কিছু হলে সব কিছুই অকার্যকর হয়ে পড়বে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ধরে রাখতে হলে জেটির বিকল্প নেই ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, যখন পর্যটন মৌসুম আসে তখন জেলা পরিষদ থেকে কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়্। কিন্তু এই বছর প্রেক্ষপট ভিন্ন জেটির অবস্থা বেশ নাজুক। ঘুর্নীঝড় ইয়াস সব শেষ করে দিয়েছে আসছে মৌসুমে যদি ঠিক করা না হয় তবে  পর্যটক  আসতে পারেবে না।
স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রহমান জানান, পর্যটক মৌসুমই দ্বীপবাসীর ইনকামের নির্ভরযোগ্য একমাত্র সুযোগ। সেই সুযোগে জেটির ভাঙ্গন ইনকামের সুযোগ বাধাগ্রস্থ করছে বার বার। মৌসুমের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পত্র-পত্রিকায় অনেক রিপোর্ট করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছ্ইু হচ্ছেনা। জেটির সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে দ্বীপবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের লোকসান গুনতে হবে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক  প্রতিবেদককে জানান, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের পর জেটির অবস্থা তেমন ভালো নয়। সেন্টমার্টিন জেটিটির ভয়াবহ ভাঙনে গাইড বিম না থাকায় সার্ভিস বোট জেটিতে ভিড়তে পারে না। পর্যটকবাহী একটি জাহাজ ভিড়লে অন্য জাহাজ ভিড়তে না পেরে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে নোঙর করে অপেক্ষা করতে হয় এবং বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের ওঠানামা করাতে হয়। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ জেটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহমদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেটির কারণে সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটক বিমুখ হয়ে যাবে। বিপর্যয় এড়াতে প্রাথমিকভাবে রেলিংগুলো হলেও মেরামতের ব্যবস্থা করা দরকার। এমন অবস্থায় দ্বীপের একমাত্র জেটিটি সংস্কার করা না হলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে সরকার পর্যটকদের রাত্রীযাপনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা শুনে স্থানীয়রা নিরাশ হয়ে পড়েছে।


এব্যাপারে কথা বলতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের  প্রধান নির্বাহী হিল্লোল বিশ্বাসের সাথে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এই জেটি রিয়ে অস্থির হয়ে আছি । ভাঙ্গা জেটি নিয়ে জেলা পরিষদের কি  পরিকল্পনা আছে তা  জানতে চাইলে উল্টো প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বসে কি কিসের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইছেন? তিনি আরো বলেন, আমি অনেক সমস্যায় আছি জবাব দিতে দিতে অস্থির হয়ে আছি আর ভাল লাগছেনা । আমরা দুটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি একটি মেরামত করার ,আরেকটি নতুন জেটির জন্য প্রস্তাব করেছি। যেটির অনুমোদন হয়ে আসে আমরা সেভাবে কাজ করবো।

আপনি আমাদের কোন লিখা কপি করতে পারবেন না।