থেমে নেই বাঁকখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, ১:১০ অপরাহ্ন /
থেমে নেই বাঁকখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক :  কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে বালু উত্তোলন চললেও দেখার কেউ নেই। দিন রাত ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক একাধিক সিন্ডিকেট নদী থেকে বালি মাটি উত্তোলন করে যাচ্ছে দিনরাতে ।

বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জেল জরিমান করলেও অবাধে বালু উত্তোলন করে চলছে তারা। দিনরাত অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ এখন হুমকির মুখে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শক্তিশালী যন্ত্রের মাধ্যমে তীর কেটে চলমান এ উত্তোলনে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে নদীর দুই পাড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অবৈধ এ বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে ভাঙনের শিকার হবে ঝিলংজার রাবার ড্রাম এলাকাসহ বাঁকখালী নদীর দু’পাশের ফসলি জমিসহ বহু বসতঘর। ফলে হুমকিতে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভাঙনের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে বাঁকখালী নদীর দুই পাড়ের মানুষ। প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুুখীন হবে। নদীসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয় প্রতি বর্ষা মৌসুমে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় ,সরকারের অনুমতি ছাড়া যত্রযত্র বাঁকখালী নদী অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালি ও মাটি উত্তোলনের ফলে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বাঁকখালী নদী। একই সাথে ড্রেজিংয়ের মাটি সরাসরি ময়লা আবর্জনা সহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যবহার হওয়াতে সে সব উন্নয়ন কর্মকান্ডেরও মানক্ষুন্য হচ্ছে। অন্যদিকে শতকোটি টাকা লুটপাট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে প্রায় দশ কোটি টাকার। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২ বছর আগে সরকারি ভাবে ১৯৫ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা টেন্ডার করে সরকারি নির্দেশনা মতে ড্রেজিং করা হয় কক্সবাজার বাঁকখালী নদী।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায় ৪৫ কোটি ৭০ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যায়ে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে এর মাধ্যমে পানি প্রবাহ ও নদী ভাঙন এর ওপরে গবেষণা করে নদী খননের এলাইনমেন্ট ও ঢাল ঠিক করে এ নদী খনন করা হয় যেন নদী তীর সুরক্ষিত থাকে।
কিন্তু এখন সরকারের অনুমতি ছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানে ভারী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী ড্রেজিং করা হচ্ছে। শহরের রাবার ড্যাম এলাকা, কস্তুুরাঘাট এলাকা, ফিশারী ঘাট এলাকা, নুনিয়ারছড়া এলাকা, মহেশখালী চ্যানেল সহ বিভিন্ন এলাকাতে কতিপয় ব্যাক্তি নদী ড্রেজিংয়ের নামে উল্টো সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধা গ্রস্থ করছে। কর্মকর্তাদের দাবী নদী থেকে উত্তোলন করা মাটি মিশ্রিত বালি কোনোভাবেই সরাসরি সরকারী উন্নয়ন মূলক প্রকল্পে ব্যাবহারের অনুমতি নেই। এটা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। এবং অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারনে প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা করে প্রায় ১০ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে যেখানে ভূমি উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গুলোয় বরাদ্দ রয়েছে কয়েক শত কোটি টাকা।
বর্তমানে নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করেই সরাসরি ট্রাকে করে কক্সবাজার আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর উন্নয়ন কাজে, চার লেইন রাস্তা নির্মাণ, রেললাইন প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সে সব সরকারি উন্নয়ন কাজ গুলোর মান একেবারে কমে যাচ্ছে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। মাঝখান থেকে কিছু ব্যাক্তি শতকোটি টাকা আয় করে চলে যাচ্ছে। যা দেখার কেউ নেই। তাই সচেতন মহলের দাবী এভাবে লুটপাট এবং শহরের প্রাণ বাকঁখালী নদী রক্ষা করার জন্য প্রশাসনকে এগিয়ে আসা উচিত।

আপনি আমাদের কোন লিখা কপি করতে পারবেন না।