“সন্ত্রাসের জনপদ রোহিঙ্গা ক্যাম্প” নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন.

প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

মারজান চৌধুরী :

* উখিয়ায়-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট!
* বেড়ে যাচ্ছে খুন অপহরণ!
* স্বাধীন ভাবে চলাপেরা!
* রাতের অন্ধকারে আরাসা (প্রকাশ আলিকিনের) তৎপরতা!
* নিরাপত্তা হীনতায় উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ।

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ সহ শক্তিশালী হয়ে ওঠাছে ইয়াবা সিন্টকেট।এই নানান অপরাধীর মূল হোতা মিয়ানমার নিষিদ্ধ সংগঠন আরসা প্রকাশ (আলিকিন) ।এই অপরাধ চক্রটি বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গড়ে ওঠার পর ইয়াবা বিক্রি করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। অনেকে ক্যাম্পের পাশেই সরকারি জায়গা দখল করে নিজ খরচে আলিশান বাড়িও করেছেন। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে পড়লেও তা কোন প্রকার প্রদেক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

জানা যায়,রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ পালিয়ে আসার আগে সেখানে রোহিঙ্গাদের অনেকেই ছিলেন ‘ইয়াবা ডন’। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে তাদের সেই সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।

এ নিয়ে শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্প ১৬ এর কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্তত সহস্রাধিক রোহিঙ্গা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়ের যোগাযোগ রয়েছে। সূত্রটি বলছে, মিয়ানমার থেকে রাতের আঁধারে ইয়াবা ও মাদকের চালান সীমান্তের কাঁটাতারের পার্শ্বে বয়ে নিয়ে আসে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পরে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সীমান্ত থেকে মাদকের চালান বয়ে নিয়ে আসে।

এভাবে প্রতিনিয়ত কোটি টাকার ইয়াবা ঢুকছে উখিয়া-টেকফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পরে ইয়াবার চালান সুযোগ বুঝে চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দিচ্ছে। তবে সিন্ডিকেটের গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, বাঘঘোনা ১৫ ক্যাম্পের নাজির হোসেন (প্রকাশ বরফ নাজু) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে গভীর সখ্য রয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন যুবকদের। এই নাজুর বিরুদ্ধেও ইয়াবা চোরাচালানের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।তিনি বর্তমানে বাঘঘোনা রোহিঙ্গা বাজারে একটি বরফের দোকান থাকলে তার বন্দ নাই বলে জানান নির্ভর যোগ্য সূত্র জানায়।

উখিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মনে করেছিলাম মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা চলে আসার পর ইয়াবা পাচার কিছুটা কমবে, কিন্তু ইবার পাশাপাশি সন্ত্রাসী,অপহরন সহ এখন অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। এ নিয়ে উখিয়া-টেকনাফ সহ পরো কক্সবাজার সচেতন মহল উদ্বিগ্ন।

আমরা বলছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ইয়াবা, মাদক,অপহরণ, খুন, অস্ত্র সহ নানা অনৈতিক কাজ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।এই ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানতে চাইলে তিনি বলেন , ইয়াবা ও মাদকের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তথ্যপ্রমাণসহ ইয়াবা সম্পৃক্ততার অভিযোগ পেলে ছোট হোক আর বড় হোক কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না।